ডেঙ্গুর ভয়াবহতা নির্ধরিত হয় কোন উপাদানের মাধ্যমে?

Updated: 10 months ago
  • Hematocrit বেড়ে যায়
  • Hematocrit কমে যায়
  • Neutrophil বেড়ে যায়
  • Lymphocyte বেড়ে যায়
280
ব্যাখ্যাঃ

ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ, যা Aedes মশার মাধ্যমে ছড়ায়। ডেঙ্গুর কয়েকটি ধাপ রয়েছে, যার মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে এটি গুরুতর রূপ ধারণ করতে পারে, যা 'মারাত্মক ডেঙ্গু' বা 'severe dengue' নামে পরিচিত। এই ভয়াবহতা নির্ণয়ের জন্য বেশ কিছু সূচক ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে হেমাটোক্রিট (Hematocrit) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

মারাত্মক ডেঙ্গুর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো প্লাজমা লিকেজ (plasma leakage)। রক্তনালী থেকে তরল প্লাজমা টিস্যু বা শরীরের অন্যান্য গহ্বরে বেরিয়ে এলে রক্তে রক্তকণিকার ঘনত্ব (concentration) বেড়ে যায়। হেমাটোক্রিট হলো রক্তের মোট আয়তনে লোহিত রক্তকণিকার শতকরা হার। যখন প্লাজমা লিকেজের কারণে রক্তনালীতে থাকা তরলের পরিমাণ কমে যায়, তখন তুলনামূলকভাবে লোহিত রক্তকণিকার হার বেড়ে যায়, অর্থাৎ হেমাটোক্রিট বৃদ্ধি পায়।

সুতরাং, Hematocrit বেড়ে যায় ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বা প্লাজমা লিকেজের একটি সুস্পষ্ট নির্দেশক। হেমাটোক্রিটের এই বৃদ্ধি ডেঙ্গু শক সিনড্রোম (Dengue Shock Syndrome - DSS) বা গুরুতর ডেঙ্গুর ঝুঁকি নির্দেশ করে এবং এটি রোগীর ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি পরিমাপ।

  • Hematocrit কমে যায়: হেমাটোক্রিট কমে যাওয়া সাধারণত রক্তক্ষরণ (hemorrhage) বা রক্তাল্পতার (anemia) ক্ষেত্রে দেখা যায়, যা ডেঙ্গুর তীব্রতার প্রাথমিক সূচক নয়। যদিও ডেঙ্গুতে কিছু ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ হতে পারে, তবে প্লাজমা লিকেজের কারণে হেমাটোক্রিট বৃদ্ধিই ভয়াবহতার প্রধান নির্দেশক।
  • Neutrophil বেড়ে যায়: নিউট্রোফিল হলো এক প্রকার শ্বেত রক্তকণিকা। ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে নিউট্রোফিলের সংখ্যা সাধারণত বাড়ে। ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, তাই এটি ডেঙ্গুর ভয়াবহতা নির্ণয়ের প্রধান উপাদান নয়। বরং, ডেঙ্গুতে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা (বিশেষত লিম্ফোসাইট) সাধারণত কমে যেতে পারে।
  • Lymphocyte বেড়ে যায়: লিম্ফোসাইটও এক প্রকার শ্বেত রক্তকণিকা, যা ভাইরাল সংক্রমণে ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। তবে, ডেঙ্গুর ভয়াবহতা নির্ণয়ে প্লাজমা লিকেজের কারণে হেমাটোক্রিটের বৃদ্ধিই মূল ভূমিকা পালন করে, লিম্ফোসাইট বৃদ্ধি সরাসরি ভয়াবহতার নির্দেশক নয়।
Satt AI
Satt AI
1 week ago

ভাইরাসঘটিত রোগ

ক) উদ্ভিদের দেহে রোগ

ভাইরাস তামাকের মোজাইক রোগ, ধানের টুংগ্রো রোগের জন্য দায়ী।

খ) প্রাণিদেহে রোগ

রোগের নাম

জীবাণুর নাম

সংক্রমণের মাধ্যম

গুটি বসন্ত (Smallpox)Variolaবায়ু
জল বসন্ত (Chickenpox)Varicellaবায়ু
ইনফ্লুয়েঞ্জা (Flu)Influenza Virusবায়ু
হংকং ভাইরাসSARS Virusবায়ু
হামMeasles Virusবায়ু
মাম্পসMumps virusবায়ু
পোলিওPolio myelitisদূষিত খাদ্য, পানি
জন্ডিস (Jaundice)Hepatitis Virus.যৌন, রক্ত, দূষিত খাদ্য, পানি
এইডস (AIDS)HIV Virusযৌন, রক্ত
বার্ড ফ্লু (Bird Flu)H5N1হাস, মুরগী, কবুতর, পাখি
সোয়াইন ফ্লু (Swine Flu)H1N1শুকর
জলাতঙ্ক (Street Virus)Rabies virusকুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বানরসহ অধিকাংশ হিংস্র প্রাণীর কামড়
ইবোলা (Ebola)Ebolavirusবানর, বাদুড়
ডেঙ্গুDengue Virus - DENVএডিস মশা
হার্পিস*Herpes simplexছোয়াচে
মুরগীর রানীক্ষেত বা নিউক্যাসেলAvulavirus Paramyxoviridae

*হার্পিস রোগের চিকিৎসায় অ্যাসিক্লোভার (Acyclover) নামক ঔষধ ব্যবহৃত হয়।

নিপাহ ভাইরাস (Nipah Virus)

নিপাহ ভাইরসের অস্তিত্ব পাওয়া যায় মালয়েশিয়ায় ১৯৯৯ সালে। এই রোগ প্রতিরোধের জন্য কিছু বিষয় অনুসরণ করা উচিত। যথা-

(১) খেজুরের কাঁচা রস পান না করা।

(২) গাছ থেকে যে কোন ধরনের আংশিক ফল ভক্ষণ না করা

(৩) ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালভাবে ধৌত করা

(৪) আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসলে পানি দিয়ে হাত ভালভাবে ধৌত করতে হবে।

ইবোলা ভাইরাস (Ebola Virus)

মধ্য আফ্রিকার উত্তরাংশে কঙ্গো উপত্যকায় প্রবাহিত ইবোলা নদীর নামানুসারে এই ভাইরাসের নামকরণ করা হয়েছে। ১৯৭৬ সালে কঙ্গোতে সর্বপ্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। ইবোলা ভাইরাস-এর লক্ষণ জ্বর, গলা ব্যথা, পেশী ব্যথা এবং মাথা ধরা। ইবোলা ভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ লাইবেরিয়া।

সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস (Swine Flu Virus)

সোয়াইন ফ্লুতে সর্বপ্রথম আক্রান্ত হয় মেক্সিকোর শিশু এদগার হার্নান্দেজ। বাংলাদেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী সনাক্ত করা হয় ১৮ জুন ২০০৯ সালে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সোয়াইন ফ্লুর নাম পরিবর্তন করে রাখে Influenza A.

ইনফুয়েঞ্জা (Influenza)

ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সুপ্তবস্থা (Incubation Period) অত্যন্ত কম।

SARS (Severe acute respiratory syndrome)

২০০২ সালে চীনে সর্বপ্রথম সার্স ভাইরাস ধরা পড়ে।

এইডস (AIDS)

মানবদেহে HIV (Human Immunodeficiency Virus) এর আক্রমণে এইডস (AIDS-Acquired Immune Deficiency Syndrome) রোগ হয়। এইডস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের শ্বেতকণিকা ধ্বংস হয়। ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) লোপ পায়। HIV সংক্রমণের সর্বশেষ পর্যায় হলো এইডস। মানবদেহে HIV ভাইরাস প্রবেশ করার ৬ মাস থেকে ১০ বছরের মধ্যে শরীরে এইডস এর লক্ষণ প্রকাশ পায়। এইডস রোগের কোনো নির্দিষ্ট লক্ষণ নেই। পেনিসিলিন বা অন্য কোনো এন্টিবায়োটিক দ্বারাই AIDS রোগ সারানো সম্ভব নয় অর্থাৎ এইডস-এর এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসা নেই। ফলে এইডস-এর পরিণাম নিশ্চিত মৃত্যু। AIDS রোগীর সাধারণ স্পর্শের দ্বারা এ রোগ ছড়ায় না। রক্ত সঞ্চালন, যৌন সংগমের মাধ্যমে এ রোগ সংক্রামিত হয়। গর্ভবতী মহিলা এ রোগে আক্রান্ত হলে তার সন্তানের মধ্যে এ রোগ হতে পারে। স্তনদুগ্ধ পানের মাধ্যমে আক্রান্ত মহিলার দেহ থেকে শিশুর AIDS হতে পারে। অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা এইডস সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এইডস প্রতিরোধে প্রয়োজন জনসচেতনতা। প্রতি বছর ১লা ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস পালন করা হয়। ১৯৮০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বের প্রথম 'এইডস' রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। দক্ষিণ আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি এইডস আক্রান্ত রোগী আছে।

পোলিও (Polio)

পোলিও ভাইরাস স্নায়ুকে আক্রমণ করে।

ডেঙ্গুজ্বর (Dengue Fever)

ডেঙ্গু ফিভার ভাইরাস Flavivirus জিনের Flaviviridae পরিবারের একটি RNA ভাইরাস। ডেঙ্গুজ্বর ভাইরাসের বাহক মশা এডিস এজিপটাই (Aedes aegypti)। উচ্চজ্বর, পেশী-হাড়-মাথা ব্যথা, র‍্যাশ, শরীরের বিভিন্ন স্থান হতে রক্তপাত হওয়া ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ।

ভেক্টর: যে সকল প্রাণী এক মানবদেহ থেকে অন্য মানবদেহে রোগ জীবাণু বহন করে নিয়ে যায় তাদেরকে ভেক্টর বলে। যেমন; মশা একটি ভেক্টর।

বাহক

রোগ

বাহক

রোগ

এডিস মশাডেঙ্গু জ্বরকিউলেক্স মশাফাইলেরিয়া বা গোদ
অ্যানোফিলিস মশাম্যালেরিয়াবাদুড়নিপাহ

জিকা ভাইরাস (Zika Virus)

পশ্চিম গোলার্ধে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকার একটি ভাইরাস জিকা। ১৯৪৭ সালে উগান্ডার জিকা বনে সর্বপ্রথম এই ভাইরাস এর প্রাদুর্ভাব দেখা যায়, ফলে বনের নামানুসারে এই ভাইরাসটির নামকরণ করা হয়েছে। এটি একটি মশাবাহিত ভাইরাস। এই ভাইরাসটি এডিস প্রজাতির মশার মাধ্যমে ছড়ায়। জ্বর, মাথা ব্যথা, চোখ লাল, ত্বক লাল লাল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি এই রোগের প্রধান লক্ষণ। ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে এই ভাইরাসের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

ভাইরাসঘটিত রোগের প্রতিষেধক

রোগের নাম

টীকার আবিষ্কারক

দেশ

সময়কাল (খ্রি.)

জলাতঙ্কলুই পাস্তুরফ্রান্স১৮৮৫
পোলিওজোনাস সক[*]যুক্তরাষ্ট্র১৯৫৪
বসন্তএডওয়ার্ড জেনারযুক্তরাজ্য১৭৯৬

[*]১৯৯৫ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের La Jolla শহরে মারা যান।

Related Question

View All
Updated: 2 months ago
  • মশা
  • বাদুড়
  • বানর
  • পানি
122
Updated: 3 weeks ago
  • টিটেনাস
  • টাইফয়েড
  • হাম
  • চিকেন পক্স
754
Updated: 2 months ago
  • Mosquito bites
  • House flies
  • Rodents
  • Bed bugs
67
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই